দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর, অবশেষে ছবিতে-আঁকা বর্ণমালা এখন পোস্টার আকারে পাওয়া যাচ্ছে (আপাতত, শুধুমাত্র নর্থ আমেরিকাতে)। পোস্টার টা অর্ডার করতে পারেন এই লিংক থেকে। প্রতিটি অর্ডার থেকে বাতায়ন ফাউন্ডেশন $৫ ডোনেশন পাবে। এটা প্রথম ধাপ।  এই ছবিগুলোকে অন্যান্য প্লাটফর্ম (ই-বুক, মোবাইল এপ) ও বাংলাদেশের শিশুদের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য আপনাদের সাহায্য প্রয়োজন।

হাল-নাগাদ তথ্যের জন্য চোখ রাখুন আমাদের বাতায়ন ফাউন্ডেশন এর ফেইসবুক পেজ এ। আপনাদের ফিডব্যাক ও আইডিয়া পোস্ট করতে ভুলবেন না কিন্ত । 🙂

পেছনের গল্পঃ

প্রায় বছর দুয়েক আগের কথা, Chineasy দেখে প্রথম আইডিয়াটা মাথায় এলো। ম্যান্ডারিন (Chinese) ভাষার বর্ণ (Character) গুলো এমনভাবে আঁকা, যা বর্ণ এবং অনুরূপ শব্দ, দুটোকেই চিত্রায়ন করে। সহজ, সুন্দর ছবিগুলো দেখে প্রথমবারের মতো মনে হলো, একটা নতুন ভাষা শেখ কেবল সহজই নয়, উপভোগ্যও হতে পারে। আমার প্রবাসী বন্ধু মাহমুদের কথা আরো প্ররোদনা যোগালো – “ইংলিশ আলফাবেট শিখানোর অনেক আকর্ষণীয় উপাদান আছে। কিন্ত,আমার ৩ বছরের ছেলেকে বাংলা শেখাতে  জানটা পানি হয়ে গেল রে…

পড়ার (reading) তুলনায়, আমাদের visual memory অনেকাংশে মনে রাখার জন্য শ্রেয়। আমরা যখন  কোনো Object দেখি, আমাদের মস্তিষ্ক pattern recognition এর মাধ্যমে তাকে মেমরি থেকে শনাক্ত করে। বাংলা ভাষার বর্ণ গুলোকে যদি অনুরূপ শব্দের আদলে আঁকা যায়, সেটা হয়তো মনে রাখার জন্য শ্রেয় (hypothesis)। তাছাড়া, সুন্দর ড্রয়িং আমাদের উদ্দীপিত করে, অনুপ্রেরণা যোগায়।

যেমন ভাবা, তেমন কাজ। আইডিয়াটা বলামাত্র জাহিদও হুজুগে তাল দিলো। আদতে, হুজুগে তাল দেয়াই তার কাজ। আর, আমার ছোট ভাই নুহিন (আফশিন) কে দিয়ে কোন কিছু আঁকানো প্রায় অসম্বব একটা কাজ। তবে, ভুগিজুগী বুঝিয়ে, অসম্ভব প্রতিভাধর দুই আঁকিয়েদের কোনোভাবে কাজে বসাতে পারলেই কেল্লা-ফতে। আর কোনো চিন্তা নেই। তিনজনই হই-হই করে আঁকতে বসে গেলাম।

তবে, আসল প্যারা শুরু হলো কাজ শুরু করার পরে। আঁকা যেন আর কিছুতেই শেষ হবার নয়। প্রথম ইটারেশন এ ছবিগুলো তে অনেক খুঁটিনাটি ডিটেলস থাকলেও, অনেকের মতামতের উপরে ভিত্তি করে, পরবর্তী ইটারেশন এ ছবিগুলো অনেক সহজ, সিম্পলিফাই করে আঁকা হয়েছে।

details

ইতিমধ্যে বাতায়ন ফাউন্ডেশন এর ইশকিয়াক রউফ এর সাথে আলাপ হলো, বিশেষতঃ, বর্ণমালা ড্রয়িং গুলো বাংলাদেশের কি করে মানুষের হাতে পৌঁছে দেয়া যায় (প্রবাসী বাঙালি থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশু পর্যন্ত)। সবশেষে, ওয়েবসাইট, পোর্টাল, পেমেন্ট গেটওয়ে সেটআপ, ও মেইনটেন্যান্স করছে আশিক। আর, বন্ধু রাজন ছবিগুলো থেকে সর্বশেষ পোস্টার ডিসাইন করতে সাহায্য করেছে। ব্যক্তিগতভাবে, অসম্ভব প্রিয়, নি:স্বার্থ এই মানুষগুলোর সাথে কাজ করতে পারার আনন্দটাই অন্যরকম। শত ব্যস্ততার মাঝেও তাঁরা তাদের সাধ্যমত সময় দিয়েছে, উৎসাহ জুগিয়েছে। অনেকদিন পরে যেন বুয়েটের স্বপ্নিল দিনগুলোতে ফেরত গেলাম।

poster
আরশির দেয়ালে আমাদের প্রথম পোস্টার

এই কাজের সুবাদে বাংলা ভাষা কে নতুন করে দেখেছি। আশা করি আপনারাও দেখবেন। পরিশেষে, দীপন ভাই কে অসংখ ধন্যবাদ অনুপ্রেরণা জোগানোর জন্য। রাগীব ভাই, Salwa apu, Ashfaq Ayon, Sarah কে কৃতজ্ঞতা তাদের ফিডব্যাক ও ছবির জন্য। এই ছবিগুলো যদি বাংলা ভাষা শিক্ষা কে এতটুকু সহজ ও উপভোগ্য করতে পারে, আমাদের জন্য এর চাইতে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না। 🙂

-Rubaiat Habib, Ishtiaq Rouf, Ashique Mahmood,
Afshin Shiraji, Zahid Hossain, Razon Noor Alam

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s